সর্বশেষ

8/recent/ticker-posts

ছাত্রদল নেতাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করতে কেরোসিনের বোতল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে পুরো পরিবার

রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের ফুটপাতে পরিবারসহ এক ব্যক্তির আত্মাহুতির চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফুটপাতে বসা একটি পরিবার এবং পাশে থাকা ৫ লিটারের একটি বোতলকে কেন্দ্র করে কৌতূহলের সৃষ্টি হলে পরে বেরিয়ে আসে এক করুণ ও লোমহর্ষক বাস্তবতা।


জানা গেছে, চাঁদাবাজির শিকার হয়ে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ওই বোতলে কেরোসিন নিয়ে সপরিবারে আত্মহননের পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন মুন্না নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।


                                                                            বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার হাইমচর এলাকার বাসিন্দা মুন্না ২০০৭ সাল থেকে মতিঝিলের শরীফ ম্যানশনের গলির ফুটপাতে ছোট একটি ভাতের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। স্ত্রী রূপা, ৫ বছরের ছেলে রাহী এবং ২ বছরের ছেলে ইব্রাহীমকে নিয়ে মুগদায় ছিল তার ছোট্ট সংসার। স্ত্রী বাসায় রান্না করতেন এবং সেই খাবারই এনে ফুটপাতে বিক্রি করতেন মুন্না।

কিন্তু সম্প্রতি মতিঝিল এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহিদ ও ছাত্রদল নেতা শুভ মুন্নার কাছে ঈদ উপলক্ষ্যে ৩০ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে। সামর্থ্য না থাকায় মুন্না সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দোকান ভেঙে দিয়ে অন্য কাউকে জায়গা দিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার ছোট্ট দোকানটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে মুন্না মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায্য বিচার পাওয়ার আশায় তিনি পরিবারসহ তারেক রহমানের গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। তবে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পথরোধ করে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে চরম হতাশা থেকে মুন্না আত্মাহুতির উদ্দেশ্যে নিজের ও পরিবারের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন।

                                                                          বিজ্ঞাপন

এ সময় পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে তাকে প্রতিহত করে এবং উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। চাঁদাবাজির নির্মম শিকারে পরিণত হয়ে জীবনের সবকিছু হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিবারসহ কেরোসিনের বোতল নিয়ে আত্মহননের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন এই অসহায় ব্যবসায়ী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ