সর্বশেষ

8/recent/ticker-posts

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে সতর্কতা, সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশের জরুরি নির্দেশ

 


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য কর্মসূচি ঘিরে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে সব ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক ‘জরুরি বার্তা’র মাধ্যমে আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং রেঞ্জ ডিআইজিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ওই দিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানারসহ প্রকাশ্যে মিছিল করার চেষ্টা হতে পারে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এমন কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা এ সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “স্পেসিফিক কোনো থ্রেট বা আশঙ্কা নেই। আমরা সতর্ক আছি।”

তিনি আরও জানান, সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি থাকে। সামনে বড় আয়োজন হিসেবে ১০ মহররমের আশুরা রয়েছে, পাশাপাশি ২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও রয়েছে। এসব বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই পুলিশি ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “নতুন পরিকল্পনা, নতুন নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও অপারেশন কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং তা অব্যাহত থাকবে।”

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এর তিন দিন পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং এরপর থেকে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, শীর্ষ নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের একে একে গ্রেপ্তার করা হয়। জোটসঙ্গী বিভিন্ন দলের কয়েকজন নেতাও গ্রেপ্তার হন।

দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন, ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রমে তাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।

আন্দোলন দমনে শত শত মানুষ হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচার চলছে। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

তবে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন সময় ধরপাকড় চালানোর কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ