চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে নতুন করে আলোচনায় ‘তিন মোবারক’!
একই নামের একাধিক সন্ত্রাসী—
কেউ ডেভিড ইমন, কেউ গলাকাটা মোবারক, আবার কেউ টেস্টার মোবারক নামে পরিচিত।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
কারা এই তিন মোবারক? আর তাদের সঙ্গে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর সম্পর্কই বা কী?
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাউজানের রায়হান আলমের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গত ১৭ আগস্টের ওই পোস্টে রায়হান আলম লিখেছিলেন—
“সাজ্জাদ ভাইয়ের সব অটো মাল... আমার মতো শত শত রায়হান তার স্টোরে পড়ে আছে।”
এই পোস্টের পর পুলিশের ধারণা, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে একই নামে একাধিক সদস্য থাকতে পারেন।
আর ‘তিন মোবারক’ গ্রেপ্তারের পর পুলিশের সেই ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
প্রথমজন—
মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একসময় ক্রিকেট খেলতেন ইমন।
কিন্তু সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে জড়িয়ে পড়েন চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে—এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
সুদর্শন চেহারার কারণে বাহিনীতে তিনি ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পুলিশের দাবি, ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর রায়হান আলমের সঙ্গে ডেভিড ইমনও বাহিনীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসেন।
তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দ্বিতীয়জন—
মুহাম্মদ মোবারক ওরফে গলাকাটা মোবারক বা কালা মোবারক।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ডেভিড ইমনের সহযোগী এবং একজন ভাড়াটে খুনি।
২০১৪ সালে মো. বাবু নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগের পর তিনি ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে পরিচিত হন।
আবার গায়ের রং কালো হওয়ায় তাকে ‘কালা মোবারক’ নামেও ডাকা হয় বলে জানা গেছে।
গত ২৬ আগস্ট ফটিকছড়িতে তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময় হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে অস্ত্র সমর্পণ করে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আর তৃতীয়জন—
টেস্টার মোবারক।
পুলিশের দাবি, কারাবন্দি ডেভিড ইমনের নির্দেশে ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন তিনি।
গত শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের চাইল্লাতলী শফির টিলা এলাকায় একটি টং ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চিকন, লিকলিকে শারীরিক গঠনের কারণে তিনি ‘টেস্টার মোবারক’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন বলে জানা গেছে।
হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের ভাষ্য অনুযায়ী, টেস্টার মোবারক মূলত কালা মোবারকের অধীনে থেকে ফটিকছড়িকেন্দ্রিক অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতেন।
পুলিশের দাবি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রাখতে ডেভিড ইমন নিয়মিত টাকা পাঠাতেন এবং ফটিকছড়ির বিভিন্ন সংঘাত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে টেস্টার মোবারকের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল।
তবে এখানেই শেষ নয়।
পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে।
তিন মোবারক গ্রেপ্তারের পর এখন বাহিনীর নেতৃত্বে রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলমসহ অন্য সহযোগীরা রয়েছেন বলে ধারণা পুলিশের।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের ভাষ্য—
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বড় সাজ্জাদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, বিদেশে অবস্থান করেও বড় সাজ্জাদ চট্টগ্রামের অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই—
‘তিন মোবারক’ গ্রেপ্তারের পর বড় সাজ্জাদ বাহিনীর পরবর্তী টার্গেট কারা?
আর রায়হান আলমের ভাষায়,
সত্যিই কি সাজ্জাদের ‘স্টোরে’ শত শত রায়হান-মোবারক ছড়িয়ে আছে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তৎপর চট্টগ্রাম পুলিশ।
C71 News/এম.ইফতেখারুল হাসান
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ