চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় নারী শক্তির নেত্রী সাদিয়া আফরিন মানহানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে
আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা হিসেবে দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সানজিদা সুলতানা ইভা ও হুজ্জাতুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে সাদিয়া আফরিন উল্লেখ করেন, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব। পাশাপাশি তিনি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা কমিশনার পদপ্রার্থী।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়স্থ হোটেল পেনিনসুলা চিটাগাংয়ে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী ঘটনাবলির সূত্রপাত হয়।
মামলায় দাবি করা হয়েছে, ১৭ জুনে ১ নম্বর আসামি সানজিদা সুলতানা ইভা চকবাজার থানায় জিডি দায়ের করেন। ওই জিডিতে সাদিয়া আফরিন এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা এস. এম. সুজা উদ্দীনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মানহানিকর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
নালিশকারিণীর দাবি, জিডিতে উল্লেখিত অভিযোগ অনুযায়ী ১৪ জুন পেনিনসুলা হোটেলের টপ ফ্লোরে তাকে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো, অশ্লীল আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও বিদ্বেষমূলক।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, জিডির তদন্তে চকবাজার থানা পুলিশ হোটেল পেনিনসুলা চিটাগাংয়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে।
নালিশকারিণীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পর্যালোচনায় জিডিতে বর্ণিত অভিযোগের সমর্থনে কোনো দৃশ্যমান বা নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিচারকালে সংশ্লিষ্ট তদন্ত নথি, সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, এরপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নালিশকারিণীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকে এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯ জুন ২০২৬ কোতোয়ালী থানাধীন কাজির দেউরি এলাকার কিচেন রেস্টুরেন্টে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাদিয়া আফরিন ও এস. এম. সুজা উদ্দীনের ছবি সংবলিত ব্যানার ব্যবহার করা হয় এবং লিখিত বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির সহযোগী, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্ররোচনাকারী, রাজনৈতিক পদ-পদবীর লোভ প্রদর্শনকারী এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
আরজিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা বক্তব্য জাতীয়, স্থানীয়, প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে তার বিরুদ্ধে জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয় এবং তার দীর্ঘদিনের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সম্মান, রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাদিয়া আফরিন দাবি করেন, আসামিরা অভিযোগগুলোর অসত্যতা জেনেও তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব বক্তব্য প্রচার করেছে। তার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় কমপক্ষে ৫ কোটি টাকার সমপরিমাণ সুনামগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
মামলার আরজিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৪ জুনের ঘটনার পর ২ নম্বর আসামি হুজ্জাতুল ইসলাম নালিশকারিণীর স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের আশঙ্কা সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেন। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিচারকালে তা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারি, বিচারকার্য পরিচালনা ও আইনানুগ শাস্তির পাশাপাশি চকবাজার থানার জিডি সংক্রান্ত তদন্ত নথি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার প্রতিবেদন আদালতে তলবের আবেদন জানানো হয়েছে।
এছাড়া, নালিশকারিণী পৃথক দেওয়ানি আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার সংরক্ষণ করেছেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার (২৪ জুন) নিজের ফেসবুক পোস্টে মামলা দায়ের করেছেন বলে সাদিয়া আফরিন লেখেন, যারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করলাম। মামলা এখন পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, দুইটা কথাঃ- ১) আমাকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করুন,আদর্শিকভাবে পরাস্ত করুন আমাকে রাজনীতি থেকে একদম নাই করে ফেলুন কোন আপত্তি নাই। কিন্তু রাজনৈতিক আমাকে টেনে ধরতে যদি কেউ আমার ব্যক্তিত্বে আঘাত করে তাহলে তার মুক্তি নাই।
কারন রাজনীতির বাইরে আমার একটা জীবন আছে,সামাজিক অবস্থান আছে,সম্মান আছে,সংসার পরিবার আছে। তাই রাজনৈতিকভাবে ঠেকাতে যদি আমার সম্মানে হাত দিতে চেষ্টা করেন সেই হাত পুড়িয়ে কয়লা না হওয়া অব্দি আমি ক্ষমা করবনা। শুধু আমি একা না,চট্টগ্রাম নারীশক্তির সকল নারী নেত্রী,কর্মী,সমর্থক,শুভাকাঙ্ক্ষীর সম্মান আমার কাছে আমানত।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নারীশক্তির কোন নারীর সম্মানহানি করার অপচেষ্টা করলে,তাদের প্রাইভেসী নষ্ট করলে,তাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলে,তাদেরকেও রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা করলে তার শেষ না দেখা অব্দি আমি থামব না। আমি এবং সোজা ভাইকে টার্গেট করে যেই ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছিলেন সেটাতো সফল হলোনা। নতুন কিছু চেষ্টা করেন যদি দম থাকে। যারা ষড়যন্ত্র করেছেন তাদের বিরুদ্ধে দুনিয়ার বিচার শুরু। বাংলাদেশের প্রশাসন আর আইনের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। আশা করি যারা ষড়যন্ত্র করেছেন আর যারা পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছেন আপনাদের সাথেও ইনসাফ কায়েম হবে।
আর দোয়া করি ইহকালীন লাঞ্ছনা আর পরকালেও যেন আপনাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া যায়। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে একটাই বাক্য "ফি নারি জাহান্নামা খালিদিনা ফিহা"।

0 মন্তব্যসমূহ