সর্বশেষ

8/recent/ticker-posts

চট্টগ্রামের শীর্ষ স ন্ত্রা সী ডেভিড ইমনের ‘সহযোগী’ গ লা কা টা মোবারক গ্রেপ্তার ও ৮দিনের রিমান্ড

 


ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারক’।

পুলিশের দাবি, কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার রাতে ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের একটি বাড়িতে মোবারকের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালায় পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ৩টার দিকে বাড়িটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাড়ির প্রবেশপথে লোহার ফটক থাকায় পুলিশ বারবার পরিচয় দিয়ে ফটক খুলতে বললেও সেটি খোলা হয়নি। পরে ফটক ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ।



অভিযানের একপর্যায়ে বাড়ির একটি ওয়াশরুমের ওপরের ফলস ছাদে মোবারকের অবস্থান শনাক্ত হয়। পুলিশ সেখানে এগিয়ে গেলে মোবারক একটি পিস্তল দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন মোবারক। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মোবারক গুলি ছোড়ার চেষ্টা করলে তার অস্ত্র আটকে যায়। তখন পুলিশ তাকে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে।

                                                     বিস্তারিত পড়ুন

অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আলম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দেহরক্ষী পুলিশ কনস্টেবল মামুনুর রশিদ এবং কনস্টেবল শাহনাওয়াজ ও সাদ্দাম হোসেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় ওই বাড়ির ফলস ছাদ থেকে মোবারকের তিন সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, মোহাম্মদ ফরিদ ও মোহাম্মদ নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং চার রাউন্ড শর্টগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া মোবারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ব্রাজিলের তৈরি একটি পিস্তল। পুলিশের দাবি, অস্ত্রটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্রের অংশ।

                                                  বিস্তারিত পড়ুন

পুলিশের তথ্য বলছে, প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে দ্রুত আত্মগোপনে চলে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোবারকের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও রাউজানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে তিনি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতেন বলেও দাবি পুলিশের। এর আগে মোবারককে গ্রেপ্তারে কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।


চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, মোবারকের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের ওপর গুলি চালানো হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।



পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোবারক বর্তমানে কারাগারে থাকা সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত। ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অন্যতম সহযোগী বলেও পুলিশ জানিয়েছে। মোবারক গ্রেপ্তারের পর ফটিকছড়ি, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ।

গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের ফটিকছড়িতে পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র আইনের মামলায় কথিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেনকে মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


C71 NEWS/এম ইফতেখারুল হাসান 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ