সর্বশেষ

8/recent/ticker-posts

বিচারই শুরু হয়নিএখনো কিন্ত হ ত্যার বয়স কেটে গেল এক যুগ - আল্লামা নূরুল ইসলাম ফারুকী

ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের এক যুগ হয়ে গেল, এখনো বিচার শুরু হয়নি।


দীর্ঘদিনেও বিচার না পাওয়ায় মর্মাহত ফারুকীর পরিবার। তাদের প্রত্যাশা, বিচার যে দ্রুত শেষ হয়, আসামিরা শাস্তি পায়।
২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ফারুকীর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে ফয়সাল ফারুকী রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সপ্তাহখানেক পর ৩ সেপ্টেম্বর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ফারুকীর পরিবার অভিযোগ করে, ধর্মীয় উগ্রপন্থিরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।

                                                       AD



আর ঘটনার ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম। তিনি বলেছেন, হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ও জেএমবি জঙ্গিরা ঘটিয়েছে।
অভিযোগপত্রে ১২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ছয় জনের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা না পাওয়ায় এবং বাকিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জামাই ফারুক, নাঈম, ইমন, হাফেজ কবির, আশফাক ই আজম ওরফে আপেল ও খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললেও তাদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। একই ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ছয়জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা করেন।

                                                   আরও পড়ুন


এ ছয়জন হলেন তৎকালীন এনটিভি ও এটিএন বাংলার ইসলামী অনুষ্ঠানের আলোচক ও জামায়াতের রুকন তারেক মনোয়ার, নরসিংদী জামায়াতের সাবেক আমির কামাল উদ্দিন জাফরী; দিগন্ত ও পিস টিভির ইসলামী অনুষ্ঠানের আলোচক কাজী ইব্রাহীম; এটিএন বাংলার ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক আরাকানুল্লাহ হারুনী; আরটিভি ও রেডিও টুডের উপস্থাপক খলেদ সাইফুল্লাহ বখশী এবং বাংলাভিশনের ‘কোরানের আলো’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মুখতার আহমদ।
তবে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে নাম আসা আসামিরা হলেন-হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার, রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ।
তাদের মধ্যে বাশার ও রফিকুল পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। কারাগারে রয়েছেন হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর। অপর তিন আসামি জামিনে রয়েছেন।
গত বছরের ২৩ মার্চ সিআইডির দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তাদের বিচারের জন্য মামলাটি প্রস্তুত করে গত ২১ অক্টোবর নথি ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।



একই সঙ্গে সুপারিশ করা ১২ জনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলাটি ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলামের আদালতে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে।


গেল ২০ অগাস্ট মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ছিল। কয়েকজন আসামির অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।
তবে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন রাখা হয়েছে বলে আসামিপক্ষের এক আইনজীবী জানিয়েছেন।


আসামি রতন চৌধুরী ওরফে রিপনের আইনজীবী মো. জায়েদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন পর মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আশা করছি, আমরা ন্যায়বিচার পাব।”
আবু রায়হানের আইনজীবী কে এম শরীফুল ইসলাম (তানভীর) বলেন, “অভিযোগ গঠন থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি। আশা করছি, আদালত তাকে অব্যাহতি দেবেন। তারপরও যদি অভিযোগ গঠন হয়ে যায়, আমরা ট্রায়াল ফেইস করব।”


ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলাটা ১২ বছর আগেকার। তদন্তে অনেক সময় গেছে। ১০ বছর পর ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।”


তিনি বলেন, “মামলাটি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। সেনসিটিভ মামলা। অভিযোগ গঠন হয়ে গেলে সাক্ষী হাজির করে মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করবো।”
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ফারুকী সূফী মতবাদ ও মাজারপন্থি মতাদর্শের অনুসারী। অন্যদিকে আসামিরা জেএমবির মতাদর্শের অনুসারী এবং মাজারবিরোধী। সে সময় তিনটি উপদলে বিভক্ত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ-জেএমবির একাংশের পরিকল্পনায় ফারুকীকে হত্যা করা হয়।


অভিযোগপত্রে জেএমবির তখনকার উপদলগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে, একটি গ্রুপে সালাউদ্দিন, একটি গ্রুপে সরোয়ার জাহান মানিক এবং অপর গ্রুপে সাইদুর রহমান নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। সালাউদ্দিন গ্রুপের লোকজন তাদের কথিত অভিযান সংঘটনের সময় ডাকাতি করত বলে জানা যায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, সালাউদ্দিন গ্রুপের অন্যতম সদস্য ছিলেন জামাই ফারুক। তিনি ঢাকায় ‘অভিযানের’ দায়িত্বে ছিলেন। মতাদর্শের পার্থক্যের কারণে তারা ফারুকীকে হত্যা করেন।

অভিযোগপত্রে ঘটনার পরিকল্পনার বর্ণনাও ওঠে আসে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ২৬ অগাস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঢাকার আশুলিয়ায় ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের পাশে কামার পাড়ায় জেএমবি নেতা জামাই ফারুকের সহযোগী ইমনের শ্বশুরবাড়িতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। জামাই ফারুক ও আব্দুল্লাহ আল তাসনীম নামে জঙ্গি সংগঠনটির আরেক নেতা ফারুকীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।



সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট বাসায় ঢুকে ফারুকীকে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় আসামিরা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিং বেল বাজলে দরজা খোলা হয়। তখন দুই জন লোক বাসায় প্রবেশ করে ফারুকীর সঙ্গে সঙ্গে ড্রয়িং রুমে এসে বসেন। কিছুক্ষণ পর আরও ৬/৭ লোক বাসায় প্রবেশ করেন।

বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাদী ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। তিনি ফিরে এসে দেখেন ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে আসামিরা। পরে তারা বাসার সবাইকে বেঁধে তাকে হত্যা করে এবং নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরা নিয়ে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মারুফ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেদিনের ঘটনা ভোলার মতো না, ভোলাও যায় না।”

তিনি বলেন, “এটা একটা আলোচিত মামলা। আমরা বিচার চাই।”

ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বলেন, “আমরা তো অনেক বছর ধরে বলে আসছি। গত সরকারের কাছে বলেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বলেছি, বর্তমানে যারা আছেন তাদের কাছেও আমরা একই প্রত্যাশা করব। বিচারটা যেন দ্রুত হয়।”

তিনি বলেন, “এ সময়ে অনেক পুরোনো মামলার বিচার হয়েছে। আমাদেরটা এখন পর্যন্ত হচ্ছে না বলে আমরা মর্মাহত। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিচারটা যেন হয়।”

পুরোনো খবর: সংগ্রহীত 



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ